ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও টলিউড অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উত্তরপ্রদেশের সিকন্দরাবাদের নগর পালিকা চেয়ারম্যান ও বিজেপি নেতা ডক্টর প্রদীপ দীক্ষিতকে সায়নী ঘোষের মাথা কেটে আনলে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিতে শোনা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সায়নী ঘোষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ট্যাগ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন নারী সাংসদকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া গণতন্ত্র ও নারীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের একটি বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে শিবলিঙ্গ সম্পর্কিত আপত্তিকর ছবি প্রকাশিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সায়নী ঘোষ দাবি করেন, সে সময় তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল এবং পোস্টটি তিনি দেননি। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
বিতর্ক বাড়তে থাকলে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা প্রদীপ দীক্ষিত দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে এবং তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে জেলা বিজেপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য দলের অবস্থান নয়।
সব বিতর্কের মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন সায়নী ঘোষ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে তার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

