বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৈশ্বিক শিক্ষার দুয়ার আরও প্রশস্ত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সহযোগিতা আহ্বান করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ করে বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গত রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশন্স’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনশক্তি কাঠামোর আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে চার্লস হার্ডার বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন এবং পুষ্টিহীনতার মতো বিদ্যমান সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, এসব সমস্যা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে স্কুল মিল ও শিশুস্বাস্থ্য খাতে তাদের সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, সারাদেশে ‘মিড ডে মিল’ (স্কুল মিল) চালু, শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম প্রদান এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এবং ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, মো. দাউদ মিয়া, অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়া এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
শিক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের এই মিত্রতা আগামীতে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

