লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসী হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজ অরোরা পারস্য উপসাগর পেরিয়ে হরমুজ প্রণালি হয়ে আরব সাগরের দিকে যাচ্ছিল। তবে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর প্রণালি অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়ে জাহাজটি আবার পারস্য উপসাগরে ফিরে যায়।
প্রেস টিভির খবর প্রকাশের পর গ্রিসভিত্তিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্রাফিকও নিশ্চিত করেছে যে অরোরা বর্তমানে পারস্য উপসাগরে নোঙর করা অবস্থায় আছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরোরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত একটি জাহাজ ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে যার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। তবে ইরান সরকার বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য এটি কার্যত বৈশ্বিক জ্বালানির প্রধান দরজা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে এবং তেলের দাম বাড়তে থাকে।
টানা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সেই সময়সীমায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তেহরান। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অথবা ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ওয়াশিংটনকে এর মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

