দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা কাটিয়ে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর তেহরান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, যার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত রাখবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সক্রিয় মধ্যস্থতায় এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শরীফ নিশ্চিত করেছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর আওতায় লেবাননসহ অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই ঐতিহাসিক সমঝোতার ধারাবাহিকতায় আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ রুট নিশ্চিত করবে তেহরান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে।
এই কূটনৈতিক সাফল্যের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনুভূত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির খবর প্রচার হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সূচক ১৭ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বুধবার ভোরে তেহরানে হাজার হাজার মানুষ জাতীয় পতাকা ও প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি নিয়ে রাস্তায় নেমে এই শান্তি প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়।
আন্তর্জাতিক মহলে এই উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। মিশর ও ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। কায়রো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে এবং তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বাগদাদও আশা প্রকাশ করেছে যে, এই সংলাপ ও কূটনীতির ভাষা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চিরতরে প্রশমিত করবে।
তবে এই চুক্তির ঘোষণার মধ্যেই ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের আসন্ন আলোচনার দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

