প্রধান খবর

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, ৬ শিশুসহ নিহত ১৩

ইরানের রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের জনবহুল আবাসিক এলাকায় রাতভর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৬ শিশুসহ ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার ভোরে তেহরান প্রদেশের বাহারেস্তান জেলাসহ বেশ কিছু এলাকায় এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। নিহত শিশুদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী চারজন মেয়ে এবং দুইজন ছেলে রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাহারেস্তান জেলার কালে মির এলাকার দুটি বহুতল আবাসিক ভবনে সরাসরি বোমা হামলা চালায় মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলে হামলার ফলে ভবন দুটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বাহারেস্তানের গভর্নর জানিয়েছেন, বর্তমানে সেখানে খননযন্ত্রের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে এবং উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি পূর্ব তেহরানের আরেকটি আবাসিক এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন, যেখানে ৩টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ৫০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা পরিচালনা করেছে। তবে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত চিত্র ও তথ্যে দেখা গেছে, হামলার মূল শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও বেসামরিক এলাকা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দেশ দুটির যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ জন এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও বসে নেই; তারা অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের আবাসিক এলাকায় এই প্রাণঘাতী হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু এবং বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *