নিজেদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন স্টেডিয়ামে শুরুটা স্মরণীয় করে রাখতে পারেনি ইন্টার মিয়ামি। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্র ছিলেন তাদের জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তারই নামে নামকরণ করা স্ট্যান্ডের সামনে গোল করে নু স্টেডিয়ামের উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
নতুন স্টেডিয়ামে ক্লাবটির প্রথম গোলও আসে মেসির পা থেকেই। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তিনি জালের দেখা পান। নিজের নামে নামকরণ করা গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে করা এই গোল দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়। তবে পুরো ম্যাচে শেষ হাসি অবশ্য তাদের হয়নি।
অস্টিন এফসির বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়। শুরুটা অবশ্য অতিথি দলই ভালো করে। ডিফেন্ডার গুইলহেরমো বিরো প্রথম গোল করে এগিয়ে দেন অস্টিনকে। তবে সেই লিড বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। মাত্র চার মিনিট পর হেডে গোল করে মিয়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি।
প্রথমার্ধে অস্টিন সুযোগ তৈরি করলেও ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। তারা দু’বার পোস্টে আঘাত করে এবং একটি পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেও সফল হতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সফরকারীরা।
এক পর্যায়ে মেসির কাছ থেকে বল কেটে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে গোল আদায় করে নেয় অস্টিন। বক্সের সামনে বল হারানোর প্রায় ১০ সেকেন্ড পর জেইডেন নেলসন গোল করে অতিথিদের আবারও এগিয়ে দেন।
পিছিয়ে পড়ে চাপ বাড়ায় ইন্টার মিয়ামি। মেসি একাধিক সুযোগ তৈরি করেন, তবে গোলরক্ষক ব্রাড স্টুভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
ম্যাচের ৮১ মিনিটের দিকে বদলি হিসেবে নামার কিছুক্ষণ পর লুইস সুয়ারেজ দারুণ এক ভলিতে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপরও মেসির আরেকটি মুহূর্ত আসার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জয়ের পর এটাই ছিল ইন্টার মিয়ামির নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম হোম ম্যাচ। ছয় বছরের বেশি সময় পর ফোর্ট লডারডেল থেকে নিজ শহরে ফিরে এসেছে ক্লাবটি। ম্যাচটি ২৬ হাজার ৭০০ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
শেষ পাঁচ এমএলএস ম্যাচে অপরাজিত থাকলেও, ঘরের মাঠের উদ্বোধনটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি ইন্টার মিয়ামি। অন্যদিকে টানা চার ম্যাচ জয়বঞ্চিত থাকল অস্টিন এফসি।

