দেশে বৈদেশিক ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়ার পরিকল্পনা সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ একটি দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যার বাস্তব উদাহরণ আর্জেন্টিনা যেখানে বিপুল ঋণের বিপরীতে সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে একটি দেশের প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণে বৈদেশিক ঋণ, ফরেক্স রিজার্ভ, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য ও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু জিডিপি দিয়ে এই সক্ষমতা বিচার করা যথেষ্ট নয়।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। ভারতের শক্তিশালী রিজার্ভ তাদের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখেছে, বিপরীতে পাকিস্তান কম রিজার্ভ ও বেশি ঋণের কারণে চাপে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।

