লাইফস্টাইল ডেস্ক: ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর ও বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিভেদে অসুস্থতার ঝুঁকির পার্থক্যের মূল কারণ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি, যা অনেকাংশে নির্ভর করে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের ওপর।
সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম করে তোলে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, লেবু, আমলকী ও পেয়ারা অ্যান্টিবডি তৈরিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পালং শাক, ব্রকলি ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে সুরক্ষা দিয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এছাড়া রসুন ও আদায় থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর। দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে, যা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন ডিম, মাছ, মাংস ও ডাল অ্যান্টিবডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে হলুদের কারকিউমিন উপাদান প্রদাহ কমাতে সহায়ক, যা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে উপকার পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নির্দিষ্ট কিছু খাবার নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছোট ছোট অভ্যাসগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

