প্রধান খবর

টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২৬-এর দৃষ্টিতে ইরানের উচ্চশিক্ষা!

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক অবরোধের কারণে ইরানের জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে, এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং গবেষণার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাংকিং ২০২৬এ উচ্চস্তরের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যদিও গত ২০২৪ সালের তালিকায় ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কিছুটা শক্ত অবস্থানে ছিল।

টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) র‌্যাংকিং ২০২৬ অনুযায়ী, এবার ইরানের মোট ১০১টি বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৮৫টি এবং ২০২৩ সালে মাত্র ৬৩টি। এই বৃদ্ধি দেশটির উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কেরমানশাহ ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস, আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিএই তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ৩৫১–৪০০ র‌্যাংকিংএ অবস্থান করছে। এর মধ্যে কেরমানশাহ ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস ইরানের শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে, যা দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হয়।

অপরদিকে, দেশের শীর্ষ চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ইউনিভার্সিটি অব তেহরান যৌথভাবে ৪০১৫০০ র‌্যাংকে অবস্থান করছে। ইরানের ষষ্ঠ ও সপ্তম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং তেহরান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সে রয়েছে ৫০১৬০০ স্থানে।

দেশটির অষ্টম, নবম ও দশম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলব্রোজ ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস, বাবল নুশিরভানি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং বাবল ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসসহ মোট ১২টি ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ৬০১৮০০ র‌্যাংকিংএ অবস্থান করছে।

এছাড়া, টাইম হায়ার এডুকেশন র‌্যাংকিংএ ইরানের সর্বশেষ তালিকাভুক্ত (১০১তম) বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইয়াসুজ ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস ১৫০১+ র‌্যাংকিংএ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তাই, পরিশেষে বলা যায়, নিজস্ব উচ্চশিক্ষা ও উন্নত গবেষণার উপর দাঁড়িয়ে ডিফেন্স সিস্টেম, মেডিসিন এবং ন্যানোটেকনোলজি শিল্প উন্নয়নে ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিকভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যা বিশ্বের অন্যান্য স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *