প্রশ্ন: আমরা জানি যে, রোজা অবস্থায় গড়গড়া করা যাবে না। এখন ফরজ গোসলে গড়াগড়া করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে রোজা অবস্থায় কারো গোসল ফরজ হলে তিনি কীভাবে তা সম্পন্ন করবেন? গড়গড়া না করলে এবং নাকের নরম অংশে পানি না পৌঁছালে তার গোসল সম্পূর্ণ হবে কি? রমজানে ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম কী?
আবু সাইদ, পল্টন, ঢাকা
উত্তর:
রোজা অবস্থায় গড়গড়া করা ও নাকের গভীর পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ নয়, বরং সুন্নত। কারণ, রোজা অবস্থায় গড়গড়া বা নাকের গভীরে পানি পৌঁছালে পানির ভেতরে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে। তাই এতে অতিরিক্ত চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে কুলি ও নাকে পানি দিয়ে গোসল সম্পূর্ণ হবে।
গোসলের ধাপসমূহ
১. প্রস্রাব-পায়খানা সেরে নিন।
২. বিসমিল্লাহ বলে দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করুন।
৩. ডান হাতে পানি নিয়ে বীর্য বা নাপাকি অংশ পরিষ্কার করুন।
৪. বাঁ হাত ধুয়ে নিন।
৫. অজু করুন। (গড়গড়া ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নত হলেও ফরজ গোসলের আগে করা অজুতে এটি অপরিহার্য নয়)
৬. পুরো শরীর ধোয়া: প্রথমে তিনবার ডানে, তারপর তিনবার বাঁয়ে পানি ঢেলে ধুয়ে নিন। নাভি, বগল ও লোম পর্যন্ত ভালোভাবে পানি লাগুক।
৭. গোসলের শেষে দুই পা তিনবার ধুয়ে নিন।
উপসংহার:
রমজানে ফরজ গোসলের নিয়ম সারা বছরের মতোই, কেবল গড়গড়া ও নাকের গভীর পানি প্রবেশের বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পানি দিয়ে গোসল করলে তা আদায় হবে, অতিরিক্ত উদ্বেগের কিছু নেই।
সূত্র: তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ, কিতাবুত তাহারাহ, ‘ফরজে গোসল বর্ণনা’ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ১০২।

