সুস্থমস্তিষ্ক, স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন এবং সেই সম্পদ পূর্ণ এক বছর তার কাছে থাকে, তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। অমুসলিম, নাবালেগ ও অসুস্থমস্তিষ্ক ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ নয়।
যেসব সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয়
১. সোনা ও রুপা
অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হোক বা না হোক সোনা-রুপা নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দিতে হবে। পোশাক বা অন্য সামগ্রীতে ব্যবহৃত সোনা-রুপার অংশও হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।
২. নগদ অর্থ ও সঞ্চয়
টাকা-পয়সা, ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র সবই জাকাতযোগ্য সম্পদ। মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ নিসাব পরিমাণ হয়ে এক বছর পূর্ণ হলে জাকাত আদায় করতে হবে।
৩. ব্যবসায়িক পণ্য
ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত যেকোনো দ্রব্য জমি, ফ্ল্যাট, পোশাক, মুদিপণ্য, ইলেকট্রনিকস, গাড়ি ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে। দোকানে বিক্রির জন্য সংরক্ষিত সব পণ্যই বাণিজ্যদ্রব্য হিসেবে গণ্য।
৪. পালিত পশু
নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী গরু, ছাগল, উট ইত্যাদি নির্দিষ্ট সংখ্যায় পৌঁছালে জাকাত দিতে হয়।
যেসব সম্পদে জাকাত নেই
সোনা-রুপা ছাড়া অন্যান্য ধাতুর অলংকার বা হিরা-মুক্তা যদি ব্যবসার জন্য না হয় তাহলে সেগুলোর ওপর জাকাত ফরজ নয়।
জাকাত আদায়ে সঠিক হিসাব ও শরিয়তসম্মত বিধান অনুসরণ করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের দায়িত্ব।
আপনি জানেন কি কোন সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ এবং কোন সম্পদের ওপর নয়? সোনা, রূপা, নগদ, ব্যবসায়িক পণ্য, পালিত পশুর নিসাব ও জাকাতের সঠিক হিসাবসহ বিস্তারিত গাইড। শারিয়াহ অনুযায়ী সহজ ও স্পষ্ট নির্দেশিকা।

