প্রধান খবর

খুলে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালি: কমছে তেলের দাম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়ার খবরে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম নাটকীয়ভাবে ১৫.৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯২.৩০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দামও প্রায় ১৬.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান প্রণালিটি খোলা রাখতে এবং সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করতে সম্মত হওয়ার পরপরই বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়।

তেলের দাম কমার এই খবরের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারগুলোতেও। বিশেষ করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সূচকগুলোতে বড় উত্থান দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক নিক্কেই (Nikkei 225) ৪.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি (Kospi) ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এই যুদ্ধবিরতিকে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হওয়ার প্রাথমিক সংকেত হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলারের আশেপাশে ছিল। বর্তমানের এই দরপতনের পরেও তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখনো কিছুটা বেশি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ইসলামাবাদের আসন্ন আলোচনা সফল হয় এবং যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ পায়, তবে তেলের দাম আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই যুদ্ধবিরতি এবং জ্বালানি তেলের দাম হ্রাসের ফলে বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *