প্রধান খবর

রাজনীতি ও ক্রিকেট নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাকিব

সম্প্রতি দেশের রাজনীতি এবং ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের এই অন্তিম সময়ে তার সমস্ত মনোযোগ এখন কেবল ক্রিকেটের ওপর। গুঞ্জন উঠেছিল যে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সাকিবের, তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমানে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলাটাই তার একমাত্র লক্ষ্য।

সাকিব তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “সম্প্রতি গণমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্য বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমি সবাইকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। আমি চাই ক্যারিয়ারের এই শেষ পর্যায়ে এসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য অবদান রাখতে।” এর আগে একটি ইংরেজি দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব জানিয়েছিলেন যে, বর্তমানে দলীয় কার্যক্রম না থাকায় তিনি ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরতে পারেন। সেই বক্তব্যের জের ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে সাকিব আরও যোগ করেন, “একটি দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর আমি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। তবে সেটা যে শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে, তা নয়। রাজনীতি ছাড়াও দেশের জন্য কাজ করা সম্ভব, যদিও রাজনীতির মাধ্যমে অনেক কাজ সহজ হয়।” সাকিবের এই বক্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, তিনি এখনই রাজনীতিতে ফেরার চেয়ে ২২ গজের লড়াইকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং দেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে হাসিমুখে মাঠ থেকে বিদায় নিতে চান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে আইনি ও সামাজিক নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশের মাটিতে বিভিন্ন লিগ ও জাতীয় দলের হয়ে খেললেও সাকিবের বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা এখন ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা সঙ্গে থাকলে তিনি আবারও মিরপুরের চেনা আঙিনায় দাপটের সঙ্গে খেলতে পারবেন। ক্রিকেটের পর জনসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আপাতত সব বিতর্কের ইতি টেনেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *