প্রধান খবর

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেই বলে জানালেন ববি হাজ্জাজ

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা বা অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের এই মুহূর্তে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয় সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অনড় অবস্থানে রয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য অনলাইন ক্লাস খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না, তাই জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থার চেয়ে সরাসরি পাঠদানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন ও যুগোপকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত সেই নতুন পদক্ষেপগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতেই তিনি এই ঝটিকা পরিদর্শনে নেমেছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হলেও, স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও বিশেষ পাঠ দেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ বিবেচনায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত নিয়মিত স্কুল চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই নতুন শিক্ষাক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *