আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, ফিফা যদি তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে স্থানান্তর না করে, তবে তেহরান এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করেই এই নজিরবিহীন দাবি তুলেছে ইরান।
গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি বলেন, ইরান ফুটবল ফেডারেশন (আইএফএফ) ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। দোনিয়ামালি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হলেই কেবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। এশিয়া থেকে প্রথম দল হিসেবে মূল পর্বে জায়গা করে নিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা। এরপর ২২ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই তিনটি ভেন্যুই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হওয়ায় ইরান সরকার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, যদি মেক্সিকোতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হয় তবেই কেবল নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তবে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে প্রস্তুতির মধ্যে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকোতে পর্দা উঠবে এই মেগা ইভেন্টের এবং ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে ফাইনালের মাধ্যমে আসর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের এই অনড় অবস্থান বিশ্বকাপের আয়োজক এবং ফিফাকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী আরও যোগ করেন, যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গ্যারান্টি পাওয়া যায় তবেই সরকার তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা কাটাতে ফিফা কোনো মধ্যস্থতা করে কি না।

