ইতালির ফুটবল অঙ্গনে একের পর এক বড় পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে। ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা ও জাতীয় দলের ডেলিগেশন প্রধান সাবেক গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের পর এবার পারস্পরিক সম্মতিতে জাতীয় দলের হেড কোচের পদ ছাড়লেন জেন্নারো গাত্তুসো। শুক্রবার তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালি ফুটবলে এই ধারাবাহিক রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন এফআইজিসির প্রেসিডেন্ট গ্রাভিনা। একই দিনে দায়িত্ব ছাড়েন জাতীয় দলের ডেলিগেশন প্রধান বুফন। এরপর কোচ গাত্তুসোর পদত্যাগে ইতালির ফুটবলে শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব সংকট আরও গভীর হলো।
লুসিয়ানো স্পালেত্তির পর গত বছরের জুনে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গাত্তুসো। এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে সরে যেতে হলো। ফেডারেশনের বিবৃতিতে জানানো হয়, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তার অধীনে ইতালি ৮ ম্যাচ খেলে ৬টিতে জয় পেয়েছিল।
বিদায়ের পর গাত্তুসো বলেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, আমরা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম তা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় দলের দায়িত্ব শেষ করছি। এর আগে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, বিষয়টি হজম করা তাদের জন্য কঠিন ছিল।
ইতালি ফুটবল ফেডারেশন গাত্তুসোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই তার চুক্তি শেষ করা হয়েছে।
এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে মূল পর্বে যেতে ব্যর্থ হয় ইতালি। ৩১ মার্চ রাতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ইতালি প্রথমে এগিয়ে গেলেও আলেসান্দ্রো বাস্তোনির লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। পরে হারিস তাবাকোভিচের গোলে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়েও ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে বসনিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়ী হয়।
এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ২০১৮ (রাশিয়া), ২০২২ (কাতার) এবং আসন্ন ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) বিশ্বকাপেও জায়গা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। টানা তিন বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি দেশটির ফুটবলে বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

