দেশে জেঁকে বসছে হামের সংক্রমণ। গত কয়েক সপ্তাহে এই সংক্রামক ব্যাধিটি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি মার্চ মাসেই ১৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এই একটি হাসপাতালেই ১২০ জনের বেশি হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের সিংহভাগই শিশু।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো হামের টিকা না নেওয়া, টিকার কৃত্রিম ঘাটতি এবং নির্ধারিত বুস্টার ডোজ প্রদানে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পটুয়াখালী থেকে আসা এক মা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে সন্তানকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, সরকার হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, নতুন করে টিকা সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছে যাতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব এবং টিকা সম্পর্কে অনীহা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের শরীরে হামের লক্ষণ যেমন-তীব্র জ্বর, গায়ে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। জটিলতা এড়াতে সঠিক পুষ্টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইসোলেশন নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেছেন।

