প্রধান খবর

বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। আগামী ২ এপ্রিল এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদে প্রতিবেদন পেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং বেশ কিছু স্পর্শকাতর সংশোধনী নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, চিফ হুইপ নূরুল ইসলামসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আলোচিত অন্যতম বিষয় ছিল ‘গণভোট’ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গণভোটের অধ্যাদেশটি যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তার ব্যবহার ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। তাই এটিকে নতুন করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে সরকার।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।’

বৈঠক শেষে জানা গেছে, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত বেশ কিছু অধ্যাদেশে সংশোধনী আনার সুপারিশ করেছে সরকারি দল। বিরোধী দল জামায়াতের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সরকার সংস্কারকৃত এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় ‘দলীয়করণের’ দিকে নিয়ে যেতে চাইছে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘কিছু মৌলিক বিষয়ে তারা আগে থেকে একমত ছিলেন না। আজও একমত হতে পারেননি। সরকারি দল কিছুটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি, যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।’
এসব বিষয়ে একমত হতে না পেরে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা অন্তত ১৫টি অধ্যাদেশের ওপর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অধ্যাদেশগুলোর কিছু যেভাবে আছে সেভাবেই পাস হবে এবং কিছু সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে আসবে। বিরোধী দলের আপত্তিগুলো প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে এবং সংসদ অধিবেশনে বিল পাসের সময় বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকবে।

আগামী ২ এপ্রিল সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই আইনি লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *