হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরব বিশ্বের উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ইরান বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বহু দেশে জ্বালানির জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে, আর সময় যত যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং জ্বালানির দাম ও সংকট উভয়ই বাড়তে থাকে।
এ অবস্থায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আলোচনায় ইরানি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানান, যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় যেতে হলে আগে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই।
তবে পাকিস্তানের প্রতি সদর্থক ইঙ্গিত হিসেবে ইরান প্রতিদিন পাকিস্তানের দুটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এক্সে লিখেছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক ও গঠনমূলক, যা প্রশংসার দাবি রাখে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুতই কাটবে এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই সংকট আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

