সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস-এ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শুক্রবার সংঘটিত এ হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal।
প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, হামলায় ঘাঁটির বেশ কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ২ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যারা দেশটির আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা করছে। রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম পরিচালিত হয়।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একাধিক দফা সংলাপ হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও মার্চের শুরুতে একই ঘাঁটিতে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে একজন পরে মৃত্যুবরণ করেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

