ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার পর দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লারিজানি ও অন্যান্য নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে এবং উপযুক্ত সময় ও স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে “চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক এবং দুঃখজনক জবাব” দেওয়া হবে। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ডের দায় যারা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ইরান কঠোরতম প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও ইসরায়েল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে তেহরানে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান অভিযান চালায়। লক্ষ্যবস্তু ছিল আলী লারিজানি-ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান এবং দেশটির অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি। হামলার পরপরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, লারিজানি নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে বুধবার ভোরে ইরান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
আলী লারিজানি ইরানের ক্ষমতার বলয়ের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় তাকে খামেনির ‘ডানহাত’ বলা হতো। চলমান যুদ্ধে নিহত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। সর্বশেষ তাকে জনসম্মুখে দেখা গিয়েছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ১০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিল।
লারিজানির হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, আর ইসরায়েল বলছে তারা প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেবে। এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

