মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে ব্রিটেন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে মাইন শনাক্তকারী ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফ্রান্স- এমন খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয়টি জানায়, ‘না। বিমানবাহী রণতরীসহ স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত- রক্ষামূলক ও প্রতিরক্ষামূলক।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সহায়তার আহ্বান জানানোর পর এই খবর সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে ওই অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ব্রিটেন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা দূর করতে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ‘বিভিন্ন ধরনের বিকল্প’ বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিদিন বিশ্বে পরিবহন হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়।
ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য সানডে টাইমস প্রথম এই পরিকল্পনার কথা জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত রয়্যাল নেভির মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লয়টেশন গ্রুপ থেকে এসব মাইন শনাক্তকারী ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে।
তবে বর্তমানে কতগুলো ড্রোন সক্রিয় রয়েছে এবং এর মধ্যে কতগুলো পাঠানো হতে পারে- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য জানা যায়নি।
অন্যদিকে দ্য সানডে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন ব্যবহারের জন্য যুক্তরাজ্যে তৈরি করা ইন্টারসেপ্টর ড্রোনও ইরানের আকাশপথে ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

