ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা বল করেছেন নাহিদ রানা। গতি ঝড় তুলে একের পর এক উইকেট শিকার করে সফরকারীদের বিধ্বস্ত করেছেন টাইগার পেসার। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘুর্ণিতে ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে শতরানের পেরোলেও বাংলাদেশের সামনে কেবল ১১৫ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে পেরেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। চাপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং এটি। এর আগে ৫ ওয়ানডে খেলে সর্বমোট ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। যার মধ্যে ২০২৪ সালে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানে ২ উইকেট ছিল সর্বোচ্চ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০.৪ ওভার ব্যাট করে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দলটি। খেলা সরাসরি দেখাচ্ছে ডিজিটাল প্লাটফর্ম আইস্ক্রিন, সরাসরি ধারাভাষ্য সম্প্রচার করছে রেডিও ভূমি।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড এটি। এর আগে সর্বনিম্ন ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে বাংলাদেশের দেয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬২ রানে হার দেখে পাকিস্তান। এছাড়া আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ১৭১ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ম্যাচটিতে ৫৮ রানে হার দেখেছিল স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি পাকিস্তানের। উদ্বোধনীতে ৪১ রান তোলেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। দশম ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য পায় টিম টাইগার্স। ফারহানকে ফেরান নাহিদ। ৪ চারে ৩৮ বলে ২৭ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার।
এরপর ছন্দ পতন ঘটে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে। নাহিদ রানার গতির ঝড় সামাল দিতে না পেরে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। টানা ৫ ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ। ৬৯ রানে ৫ উইকট হারানোর পর চাপে পড়ে সফরকারীরা।
চাপ সামাল দেয়ার আগেই তাদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান। পরপর তিন উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৮১ রানে ৮ উইকেট হারায় দলটি। এক রান যোগ করতেই আরও এক উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে ১১৪ রানের সংগ্রহ গড়তে পারে পাকিস্তান। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন ফাহিম।
বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল দুজন দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। সাদাকাত ১৮, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১০ রান করেন।
নাহিদের ফাইফারের পাশাপাশি ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার অধিনায়ক ১০ ওভারে ২৯ রান খরচ করেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজর রহমান নেন ১ উইকেট।

