দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার ভোর থেকে পরিচালিত তিন হাজারেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যের এক সাঁড়াশি অভিযানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, এখানে মানুষ ও প্রশাসন যেতে ভয় পেত। মানুষের ভয় কাটানোর জন্য সলিমপুরে অভিযান চালানো হয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানের কারণে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এখন নিয়মিত টহল টিম সেখানে যাবে।
আহসান হাবীব পলাশ আরও বলেন, কিছু সুবিধাভোগী ভূমিদস্যু সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা করে। এখানে প্রায় লাখো মানুষ আছে। তাদের পুনর্বাসনে কাজ করবে সরকার। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ডিআইজি বলেন, বড় অভিযান চালাতে গেলে কিছু দুর্বলতা থাকে। এখন থেকে এখানে আর কোনও সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান এবং ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মিয়ানমারে ব্যবহার করা হয় এমন গুলির পাশাপাশি ৭.৬২ গুলিও পাওয়া গেছে। এত অস্ত্র ও গুলি কোথা থেকে এলো, কারা তা ব্যবহার করছিল- খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে।
ডিআইজি লিখিত বক্তব্যে জানান, সেনাবাহিনীর ৫০০ সদস্য, জেলা পুলিশের ১৫০ সদস্য, মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮০০ সদস্য, রেঞ্জ রিজার্ভ থেকে ৪০০ সদস্য, বর্ডার গার্ডের ১৫০ সদস্য, র্যাবের ৪০০ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অভিযানে অংশ নেয়। এ ছাড়া তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, ৩টি ডগ স্কোয়াড, ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। চিরুনি অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ১৯টি সিসি ক্যামেরা, থ্রি ডি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স ও দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিযানে অংশ নেয়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, র্যাব-৭ এর সিও লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান প্রমুখ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত সোমবার ভোর ৫টা থেকে জঙ্গল সলিমপুর, আলিনগর ও আশপাশের এলাকায় সমন্বিত এ অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। সকাল ১০টার পর থেকে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়। পাশাপাশি পাহাড়ি ঝোপঝাড় বা মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক শনাক্তে ডগ স্কোয়াডও কাজে লাগানো হয়। তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

