জাতীয় বাজেট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ১০ জুনও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম মোট ১১ হাজার ২৩ টাকা হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৩ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩৬ বার হ্রাস করা হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট এক ভরি রুপার দাম ৫৮ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাস এবং সম্ভাব্য কর কাঠামো পরিবর্তনের প্রভাব দেশীয় বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ খাতে কর হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার সরবরাহে উৎসে কর কমানোর পাশাপাশি জুয়েলারি খাতে কর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সুপারিশ থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

