বাংলাদেশ ইউনানি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এ কে মাহবুবুর রহমান অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নসংক্রান্ত টাস্কফোর্স গঠনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রিট আবেদন দায়ের করেছেন। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক জানান, টাস্কফোর্সে সব সময় অ্যালোপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবালসহ সব শাখার প্রতিনিধিরা থাকেন। কিন্তু এবার শুধুমাত্র অ্যালোপ্যাথিক প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে, অন্য সব শাখার বিশেষজ্ঞদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্য চ্যালেঞ্জ করেই রিটটি করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা অনুমোদনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। সেখানে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তালিকাটি সময়োপযোগী হলেও তা সব অংশীজনের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স পুনঃপর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তালিকা প্রণয়ন, সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে সব অংশীজনকে নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুল আলমকে সভাপতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে সদস্যসচিব করে ১৮ সদস্যের যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, সেখানে অ্যালোপ্যাথিক ছাড়া অন্য কোনো শাখার প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। গত বছরের ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঔষধ প্রশাসন-১ শাখা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রিটে বলা হয়, ২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইনের ১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল, ভেটেরিনারি ওষুধের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করেই জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। প্রতি দুই বছর অন্তর তালিকা হালনাগাদ করার কথাও সেখানে বলা হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়, টাস্কফোর্স গঠনে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনাও মানা হয়নি। তাই আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে ১৮ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ও কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

