কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রতিবছরই ভিড় জমাতেন বাংলাদেশি পাঠক-প্রকাশকরা। জনপ্রিয় লেখকদের বই বিক্রি হতো চোখে পড়ার মতো, আর দুই বাংলার সাহিত্যিক যোগাযোগও জমে উঠত। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের পর গতবারের মতো এবারও বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ।
পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি জানান, বাংলাদেশ অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখালেও গিল্ড অনুমতি দেয়নি। তার ব্যাখ্যা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব নয়। সেই অনুমোদন না আসায় এবারের মেলায়ও বাংলাদেশ অনুপস্থিত থাকছে। তবে কোনো স্টলে চাইলে বাংলাদেশি বই রাখা যাবে।
এবার শুধু বাংলাদেশই নয়, নিয়মিত অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রও থাকছে না, কারণ বাজেট বরাদ্দ মেলেনি। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো যোগ দিচ্ছে ইউক্রেন, আর ১৫ বছর পর আবার ফিরছে চীনের প্যাভিলিয়ন। এবারের থিম দেশ আর্জেন্টিনা। মোট ২১টি দেশ এবং এক হাজারের বেশি স্থানীয় ও ভারতীয় প্রকাশক স্টল দেবে।
৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। সল্ট লেকের স্থায়ী প্রাঙ্গণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী উদ্বোধন করবেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ-বাণিজ্যিক বইমেলাটি যেখানে জনসমাগমও থাকে বিশ্বের শীর্ষে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশার খবর, তবে বইমেলার বৈচিত্র্য এবারও কমছে না।

