ইরানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে দেশটির উপকূলমুখী একটি বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাভোস থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে এই বহর ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তা অবশ্যম্ভাবী নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠ নজরদারিতে রাখছে।
মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এগুলো ইরানের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবে বহরে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। পাশাপাশি রয়েছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক। গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে বহরটি ইরানের দিকে যাত্রা শুরু করে।
২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতও ঘটে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করলে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।
যদিও সেই অভিযান শেষ পর্যন্ত হয়নি, তবে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

