প্রধান খবর

ইসরায়েলকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করবে না ফ্রান্স

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানের সাথে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল ফ্রান্স। ফরাসি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা ইসরায়েলকে কোনো ধরনের ‘আক্রমণাত্মক অস্ত্র’ (Offensive Weapons) সরবরাহ করবে না। রোববার ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বিবৃতিতে সরাসরি উল্লেখ করেন, “না, ফ্রান্স ইসরায়েলকে অস্ত্র (আক্রমণাত্মক) সরবরাহ করছে না।” তবে তিনি বিষয়টিকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে জানান যে, কিছু নির্দিষ্ট সামরিক উপাদান বিক্রির অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম মূলত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষভাবে ‘আয়রন ডোম’ (Iron Dome) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রজেক্টাইল বা ইন্টারসেপ্টরগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের রকেট হামলা থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।

ভোত্রাঁ আরও জানান, সরবরাহকৃত কিছু সরঞ্জাম মূলত দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী, যার একটি অংশ ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব প্রয়োজনেও ব্যবহৃত হয়। ফ্রান্সের এই অবস্থানটি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে তারা ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করলেও কোনো ধরনের আগ্রাসনে সরাসরি অংশীদার হতে নারাজ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সাম্প্রতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। এর কয়েকদিন আগে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি সামরিক আগ্রাসন বা আক্রমণে লিপ্ত হয়, তবে ফ্রান্স সেই লড়াইয়ে অংশ নেবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা উপত্যকা এবং লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ফ্রান্স সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে।

ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ইউরোপের অনেক দেশেই ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে মানবিক বিপর্যয় রোধে অস্ত্র বিরতির আহ্বান—এই দ্বিমুখী সংকটে ফ্রান্স নিজের ‘নিরপেক্ষ কিন্তু সতর্ক’ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তারা এটিও নিশ্চিত করছে যে, ইসরায়েলের আকাশ সুরক্ষা যেন বিঘ্নিত না হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *