বুধবারের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মানজনক সমঝোতা না হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে পুনরায় ব্যাপক আকারে বোমাবর্ষণ শুরু করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চূড়ান্ত বার্তা দেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি সম্ভবত এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমাদের অবরোধ কঠোরভাবে বজায় থাকবে। যদি বুধবারের মধ্যে কোনো সম্মানজনক সমাধান না আসে, তবে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে হবে।”
বর্তমানে দেশ দুটির মধ্যে ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, যার মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা। যদিও গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস থেকে একটি চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি সংলাপে বসলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেই বৈঠক শেষ হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘ডেডলাইন’ মূলত ইরানের ওপর ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় করতেই এমন আক্রমণাত্মক সুর অবলম্বন করছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের অতীত রেকর্ড এবং মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির ধরণ বলছে, বুধবারের মধ্যে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না এলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি ও বন্দরগুলো ইতোমধ্যেই বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই মুহূর্তে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতার দিকে তাকিয়ে আছে, যারা শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষকে একটি টেকসই চুক্তিতে সই করতে রাজি করাতে পারে। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন বুধবারের ওপর-যখন নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্য শান্তির পথে এগোবে নাকি ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে।

