নেপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের ২ পর্যটকসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৬ জন। দেশটির ধাডিং জেলায় পৃথ্বী মহাসড়কে গভীর রাতে পোখারা থেকে কাঠমান্ডুগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ত্রিশুলি নদীতে পড়ে গিয়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পোখারা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া বাসটি রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধাডিং জেলার বেনিঘাট রোরাং পৌরসভার ভৈসেপাটি এলাকার কাছে পৃথ্বী মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং চিনাধারা এলাকার কাছ দিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার নিচে ত্রিশুলি নদীর তীরে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাসটি।
ধাডিং জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। হাইওয়ে রেসকিউ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান রাজকুমার থাকুরি বলেন, আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাসটিতে মোট ৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুইজন ছিলেন নিউজিল্যান্ডের পর্যটক। তাদের একজন নারী ও অন্যজন পুরুষ। তারাও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর নেপাল আর্মি, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও নেপাল পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, গভীর অন্ধকার এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর ঘাটতির কারণে উদ্ধার তৎপরতায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাদের।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের নৌকায় করে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটির দিকে আনা হয়। এরপর সেখান থেকে তাদের কাঁধে করে সড়কে তোলা হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক সুবেদি জানান, রাতের অন্ধকারে টর্চলাইটের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করতে হয়েছে। ঘটনাস্থলে ত্রাণসামগ্রীর ঘাটতি ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের এই দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে ওঠে।

