মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও সংকট সমাধানে নতুন করে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওমানের মধ্যস্থতায় আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো ইস্যুকে কেন্দ্র করেই আলোচনায় অগ্রগতি আনার চেষ্টা চলছে।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘোষণা এলো। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ‘আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা হবে। চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়েই এই আলোচনা হবে।’
ওমানের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে ‘পূর্ণাঙ্গ নজরদারি ব্যবস্থা’ চালু করতে প্রস্তুত এবং এতে উত্তেজনা কমতে পারে।
আরাগচি বলেন, সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ইরান বিদেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার বদলে নিজ দেশেই এটি সমৃদ্ধকরণের কাজ চালাতে চায়। আর এর কারণ ইরানিদের ‘মর্যাদা ও গর্ব’। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞানীরা নিজেরাই এ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এর জন্য আমরা বড় মূল্য দিয়েছি। তাই এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।’
আরাগচি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করব না। জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র নজরদারিতে সবকিছু শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত থাকলে তা পরিত্যাগের কোনও আইনগত কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র অঙ্গীকারবদ্ধ সদস্য হিসেবে ইরান পূর্ণ সহযোগিতায় প্রস্তুত। তবে ওই চুক্তির অধীনে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের, এমনকি সমৃদ্ধকরণের অধিকারও তাদের রয়েছে। সমৃদ্ধকরণ আমাদের আলোচনার সংবেদনশীল বিষয়। দুই পক্ষই একে অপরের অবস্থান জানে। উদ্বেগগুলো আমরা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করেছি। সমাধান সম্ভব বলে মনে করি।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম ‘সমৃদ্ধকরণ শূন্য’ দেখতে চায়। এ মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনও চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থনের বিষয়ও থাকতে হবে। তবে আরাগচি জানান, বর্তমানে ইরান ‘শুধু পারমাণবিক ইস্যু’ নিয়েই আলোচনা করছে। ‘অন্য কোনও বিষয় নয়। এ বিষয়ে একটি চুক্তি সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা শেষ হয়। এ মাসের শুরুর দিকে ওমানেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনা করে। আরাগচি জানান, আসন্ন বৈঠকের আগে ইরানি প্রতিনিধিদল এমন একটি খসড়া প্রস্তুত করছে, যাতে উভয় পক্ষের উদ্বেগ ও স্বার্থের সমন্বয় থাকবে এবং দ্রুত চুক্তি সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিটি ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় করা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)-এর চেয়েও ‘ভালো’ হতে পারে। আগের চুক্তির চেয়ে নতুন চুক্তিতে ভালো উপাদান থাকতে পারে। বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরদিন শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে একমত হতে পারি এবং একই সঙ্গে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব।’

