সীমানা নির্ধারণজনিত জটিলতায় দুটি আসনের তফসিল পিছিয়ে গেলেও বাকি ২৯৮টি আসনে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে। স্বতন্ত্র ও দলীয় মিলিয়ে মোট ১,৯৬৭ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৮টি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হবে। বিএনপি কয়েকটি শরিক দল এবং জামায়াত ১০ দলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
প্রচার শুরুর আগেই কয়েকটি আসনে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। পাশাপাশি কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রচারণা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েই সহিংসতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা, প্রস্তুতি ও সক্রিয়তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিকদের যে শঙ্কা রয়েছে, তা দ্রুত দূর করা জরুরি। চোরাগোপ্তা হামলা, লক্ষ্যবস্তু করে হত্যাকাণ্ড, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব-অপতথ্য ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার যে পথ উন্মুক্ত করেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একটি শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা এখন সবার দায়িত্ব।

