হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজ লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.২৯ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান সংকট শুরু হওয়ার আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৭০ ডলারের কাছাকাছি, যা যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। মাঝে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও নতুন এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাজারকে ফের অস্থির করে তুলেছে।
এমএসটি মার্কিন (MST Marquee) জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাজার এখন মূলত যুদ্ধবিরতি-পূর্ববর্তী অস্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে গেছে। তিনি সতর্ক করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ আটকে দেয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
রবিবার এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান না আসা এবং দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় ওয়াশিংটন এই হার্ডলাইন বেছে নিয়েছে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম চড়া থাকতে পারে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটি জানিয়েছে, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে তাদের জ্বালানি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরব বর্তমানে তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সৌদি আরবের এই সক্ষমতা বিশ্ববাজারের সম্ভাব্য ঘাটতি কতটা পূরণ করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রকৃত অবরোধ শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

