বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, তাদের আগেই টোল পরিশোধ করতে হবে এ নির্দেশ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। টোল পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় এই টোল ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রতিটি ব্যারেল তেলের জন্য জাহাজগুলোকে ইরানকে ১ ডলার করে দিতে হবে। যেসব জাহাজে কোনো পণ্য থাকবে না, তাদের কোনো ফি দিতে হবে না। প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার মানে সুপার ট্যাংকারগুলোর ক্ষেত্রে টোলের পরিমাণ দাঁড়াবে কয়েক মিলিয়ন ডলার। এক ব্যারেলে ১৫৯ লিটার তেল থাকে, অর্থাৎ প্রতি লিটারে প্রায় ৭৭ পয়সা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) টোল নেবে ইরান।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। ডলারে লেনদেন করা তাদের জন্য জটিল হওয়ায় ক্রিপ্টো ও ইউয়ানকে টোলের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ক্রিপ্টো শনাক্ত করা কঠিন এবং ইউয়ানে লেনদেন করলে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতাও কমে যাবে।
আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ইউয়ানে টোল আদায় শুরু করেছে। এতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইরানের এই নতুন ব্যবস্থার ফলে তেলের বাণিজ্য পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে সরে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

