সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নতুন করে স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। ৬১টি প্রতিষ্ঠানের জন্য সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আমদানি–রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর রপ্তানির পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বাড়ানো হয়। পূর্বে সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে কিছু অসামঞ্জস্যের অভিযোগও রয়েছে।
নতুন শর্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৯৫ টাকা)। অনুমোদিত পরিমাণের বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজিকরণের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এ অনুমোদন হস্তান্তরযোগ্য নয়; অর্থাৎ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্টে রপ্তানি করা যাবে না।
তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা পরবর্তী বছরগুলোতে কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি অনুমতি স্থগিতও রাখা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১৩০টির বেশি দেশে বাংলাদেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে। খাদ্য, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং ফাইটোস্যানিটারি সনদ সংগ্রহের মাধ্যমে এ রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

