হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ পার হওয়ার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে কোনো যুদ্ধজাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করার চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে, কারণ তাদের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এই প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি।
গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণে হরমুজ প্রণালীর ভয়াবহ পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শনিবার মাত্র তিনটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পেরেছে দুটি চীনের এবং একটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী। প্রতিটি জাহাজের ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল হলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা অত্যন্ত কম। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করত।
রোববার আরও দুটি জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে। কেন তারা ফিরে যেতে বাধ্য হলো তা নিশ্চিত না হলেও স্পষ্ট যে প্রণালীটি এখন আর নিরাপদ নয়। এই পরিস্থিতিতে কাতার ও সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার অপেক্ষায় বসে নেই। কাতার ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি এখন পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রয়েছে। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে, যা হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মানিফা তেলক্ষেত্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে বিকল্প পথ ও নতুন কৌশলই এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

