প্রধান খবর

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পারমাণবিক উত্তেজনা হ্রাসে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই সমাপ্ত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই ম্যারাথন বৈঠক দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা চললেও দুই পক্ষ অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে ‘ব্যর্থ’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখন খাদের কিনারে।

আলোচনা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “দুঃসংবাদ হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বড় দুঃসংবাদ। আমরা আমাদের রেডলাইন বা অলঙ্ঘনীয় সীমাগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। দুর্ভাগ্যবশত, ইরান আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্র কেবল বর্তমান সময়ের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের একটি ‘মৌলিক সদিচ্ছা’ দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো ইতিবাচক অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি যা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করতে পারে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে যথেষ্ট নমনীয়তা এবং সদিচ্ছা প্রদর্শন করেছে। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথ থেকে সরে আসতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে যায়।

আলোচনা ব্যর্থ হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আলোচনা সফল না হওয়ার পেছনে পাকিস্তানের কোনো দায় নেই। তারা অসাধারণ আতিথেয়তা দেখিয়েছে এবং দুই পক্ষের দূরত্ব কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।”

এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেতে পারে। কোনো চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রতিনিধি দলের ওয়াশিংটন ফিরে যাওয়াকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *