ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে শিক্ষার্থীদের আর টোল পরিশোধ করতে হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে ডাকসুর উদ্যোগে ‘তরঙ্গ’ বাস সার্ভিসের রুট বসিলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ জানান, ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহন খাতে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, তার বেশ কয়েকটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘তরঙ্গ’ বাস রুটে অতিরিক্ত দুটি ট্রিপ যুক্ত করে বসিলা ব্রিজ অতিক্রম করে পরবর্তী স্টপেজ পর্যন্ত সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এ সেবা চালু হয়েছে এবং রোববার থেকে সকাল ও বিকেল দুই শিফটে নিয়মিত বাস চলাচল করবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘতম বাস রুট ‘ক্ষণিকা’ গাজীপুর পর্যন্ত চলাচল করে এবং যানজটের কারণে এ রুটে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার অপরিহার্য। তবে টোল মওকুফ না থাকায় এতদিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হতো। দীর্ঘ আলোচনার পর আজ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য টোল সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। ক্যাম্পাসে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় আটটি প্রবেশপথে নির্দিষ্ট পোশাক ও ব্যবস্থাপনার আওতায় রিকশা চলাচল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ডাকসুর অঙ্গীকার। নির্বাচনের আগে যেমন শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছিল, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে। গত চার মাসে হলভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যাও চিহ্নিত করা হচ্ছে। শিগগিরই এ চার মাসের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
তিনি আরও জানান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের টোল পরিশোধ একটি বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইউজিসি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় টোল মওকুফ হওয়া ডাকসুর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। পাশাপাশি সুফিয়া কামাল হল, কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত শাটল বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বাস সংযোজন, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওয়াই-ফাই সম্প্রসারণ এবং টিএসসি ও ভিসি চত্বরে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

