যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেহরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালেও একটি বড় কারণে ইরান চাইলে এখনই সেই অবরোধ প্রত্যাহার করতে পারছে না। কারণটি হলো: জলমাইন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রণালিতে মাইন পেতে রাখে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। কিন্তু এখন তারা নিজেরাই নিশ্চিত নয়, কোন কোন স্থানে মাইন রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, আইআরজিসি ছোট আকারের রণতরী ব্যবহার করে মাইন পেতেছিল। কিন্তু কোথায় কোথায় মাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড তারা রাখেনি। কিছু স্থানের তথ্য নথিভুক্ত থাকলেও সেখানেও সমস্যা রয়েছে-নথিভুক্ত মাইনের অনেকগুলোই সরে গেছে বা ভেসে গেছে, ফলে আগের অবস্থানে নেই। এ কারণে মাইন শনাক্ত করা এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর জন্য এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ তাদের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই পথ দিয়ে। এক মার্কিন কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, “হরমুজে এলোমেলোভাবে মাইন পেতেছে ইরান।”
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়। কিন্তু মাইন অপসারণে দেরি হওয়ায় তারা এখন জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহার করার আহ্বান জানাচ্ছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজের পরিবর্তে বিকল্প রুট ব্যবহার করাই নিরাপদ, কারণ মাইন সংঘর্ষের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।

