প্রধান খবর

ইরানের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাস নেই – মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে আলোচনার শুরুতেই মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তীব্র অনাস্থা এবং সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করেছে তেহরান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদ পৌঁছানোর পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের সদিচ্ছা থাকলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের কোনো বিশ্বাস নেই।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, “আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের সকল আলোচনা এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমেরিকানদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাসই এই অবিশ্বাসের ভিত্তি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই একটি ‘প্রকৃত এবং কার্যকরী চুক্তির’ জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ইরানও আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত।

ইরানের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। স্পিকার গালিবাফের নেতৃত্বে দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর এবং ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান। অর্থনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতিকেও এই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এক হেভিওয়েট প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জারেড কুশনার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বশান্তির জন্য বড় একটি পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ইরানের ‘বিশ্বাসহীনতার’ ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আলোচনা ফলপ্রসূ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোনো গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি হবে আধুনিক কূটনীতির অন্যতম কঠিন এক পরীক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *