ভারত সম্প্রতি রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নতুন করে ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। রয়টার্সের ২৭ মার্চ, ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি তার আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন সংগ্রহের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য হতে পারে প্রায় ৬.১ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া, ভারতের প্রতিরক্ষা দপ্তর সাম্প্রতিক সময়ে শর্ট ও লং রেঞ্জের মোট ২৮৮টি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এর আনুমানিক মূল্য হতে পারে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার আওতায় পরিকল্পনা মাফিক প্রাথমিকভাবে ১২০টি শর্ট রেঞ্জ এবং ১৬৮টি লং রেঞ্জের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সংগ্রহ করা হবে।
আসলে, ভারত প্রথমবার ২০১৮ সালে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে পাঁচটি স্কোয়াড্রন এস-৪০০ সিস্টেম ক্রয়ের চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায় ইতিমধ্যে তিনটি ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ পেয়েছে এবং সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করেছে ভারতের সামরিক বাহিনী। আর অবশিষ্ট দুটি সিস্টেম চলতি ২০২৬ সালের মধ্যে সরবরাহ করবে রাশিয়া।
প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই নতুন ক্রয় প্রস্তাবটি শিগগিরই পর্যালোচনা করে অনুমোদনের জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তরে পাঠানো হতে পারে। তবে, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচটি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্কোয়াড্রন ক্রয়ের চুক্তি হলেও বাস্তবে এর সরবরাহ ২০৩০ সালের আগে সরবরাহ পাওয়া হয়তো কঠিন হবে।
রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ হলো বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী মোবাইল সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। এটি মূলত শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি রাশিয়ার আলমাজ-আন্তেই ডিজাইন করেছে এবং ফাকেল মেশিন-বিল্ডিং ডিজাইন ব্যুরো এটি উৎপাদন করে।
এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সর্বোচ্চ রেঞ্জ ৪০০ কিলোমিটার। যদিও এর রাডার সিস্টেম ৬০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে। এতে চার ধরনের মিসাইল ব্যবহৃত হয় যেমন- ৪০এন৬ (৪০০ কিমি), ৪৮এন৬ (২৫০ কিমি), ৯এম৯৬ই২ (১২০ কিমি) এবং ৯এম৯৬ই (৪০ কিমি)।
এই সিস্টেম একযোগে ৩৬টি লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং প্রতিটি টার্গেটে ২টি করে সর্বোচ্চ ৭২টি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ফায়ার করতে সক্ষম। বর্তমানে রাশিয়ার পাশাপাশি ভারত, চীন এবং তুরস্ক এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করছে। ভারত এই ডিফেন্স সিস্টেমের নিজস্ব নাম দিয়েছে ‘সুদর্শন চক্র’।
তবে, ২০২৩ সালে ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার মোতায়েনকৃত কয়েকটি ব্যাটারি ইউক্রেনের মিসাইল ও কমব্যাট ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গত ২০১৫ সাল থেকে দীর্ঘ সময় এই সিস্টেম সিরিয়ায় মোতায়েন করা থাকলেও বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিমান কিংবা মিসাইল প্রতিহত করতে এর ব্যবহারের নজির লক্ষ্য করা যায়নি।
পরিশেষে বলা যায়, ভারতের এই নতুন ৫ স্কোয়াডন এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্রয়ের উদ্যোগকে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ আধুনিকায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশটি তার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নিজস্ব কৌশলগত অবস্থানকে আরও সূদৃঢ় করতে চায়।

