তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মানিসা প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক অস্ত্রধারীর এলোপাথাড়ি গুলিতে শিক্ষার্থীসহ অন্তত আটজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার তুরগুতলু এলাকায় এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় গভর্নরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়, সকাল ৭টা ৫ ৯ মিনিটের দিকে তুরগুতলু জেলার ‘ইনচি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুল’-এর ঠিক বাইরে গোলাগুলির খবর পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর পেয়েই পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাণ্ডব চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় সন্দেহভাজন মূল হামলাকারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশের হেফাজতে রেখে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীর বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ছড়ানো সেসব চিত্রে ওই যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে স্কুলের খুব কাছাকাছি খোলামেলাভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায়। হামলার নেপথ্যে কী কারণ বা উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
উল্লেখ্য, তুরস্কে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় কোনো বড় ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা। এর আগে গত এপ্রিলে শানলিউরফা প্রদেশের এক স্কুলে সাবেক শিক্ষার্থীর গুলিতে ১৬ জন আহত হন। যার পরদিনই কাহরামানমারাশ প্রদেশের অন্য একটি স্কুলে ১৪ বছরের এক কিশোরের তাণ্ডবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৯ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক অস্ত্রধারী হামলার পুনরাবৃত্তিতে দেশটির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

