দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার বিস্তারিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেন এবং একই সঙ্গে রুল জারি করেন।
রুলে বলা হয়েছে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআর-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি কেন গঠন করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত। একই সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশুর পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ৪৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৭৭ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯৮ জনের।
হামের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে আদালত, যাতে আরও কোনো শিশুর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে।

