দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে অসুস্থ হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮৫ জন শিশু। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ১৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশের হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দেড় মাসে হামে আক্রান্ত হয়েমৃত্যুবরণ করেছে ৪৯ জন। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অধিদফতরের হিসাবমতে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৩১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। পরবর্তী ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি এলাকায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে। দ্রুত টিকাদান সম্পন্ন হলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

