হরমুজে ইরানের ৭টি নৌযান ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাতটি দ্রুতগতির ‘ফাস্ট বোট’ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, উপসাগরে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার লক্ষ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক অভিযানের অংশ হিসেবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মার্কিন দাবি অস্বীকার করে বলেছে, দুটি বেসামরিক কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যাতে পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

পারস্য উপসাগরের এই উত্তেজনা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জাহাজে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। আমিরাতের ফুজাইরাহ তেলবন্দরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং দেশটি দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোঁড়া ১২টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক সুরক্ষায় তাদের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

এই সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ফুজাইরাহ বন্দরে হামলা ও হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকার খবরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একদিনেই ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও তা স্থায়িত্ব পায়নি, যার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মক হুমকির মুখে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে একে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আমিরাতের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে প্রণালিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকে আছেন বলে জানা গেছে, যাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছেন, এই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা এলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *