শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বিদ্যুৎহীন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র দাবদাহে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ কোমলমতি শিক্ষার্থী। নদী ভাঙনের পর নতুন সেমিপাকা ভবনে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় টিনশেড ও আধাপাকা ঘরে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে প্রচণ্ড গরমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তার। এর কিছুক্ষণ পরই জ্ঞান হারায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইলমা ও মাসুদ, চতুর্থ শ্রেণির রোমান ও মারিয়া এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা আক্তার। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের মাথায় পানি ঢেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তোলে। এই ঘটনার পর বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, অনেক শিক্ষার্থী এখন আর ক্লাসে আসতে চাইছে না।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি ভাড়া করা টিনশেড ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। ২০২৪ সালে নদীর তীরে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ হলে বিদ্যালয়টি তার আদি স্থানে পুনরায় সেমিপাকা ভবনে স্থানান্তরিত হয়। তবে নতুন স্থানে আসার পর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আগের মিটারটি খুলে নিয়ে যায় এবং নতুন সংযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জামিলা খাতুনের অভিযোগ, “নতুন ভবনে সংযোগের জন্য আমরা একাধিকবার বিদ্যুৎ দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা নতুন করে সংযোগের জন্য ১ লাখ ১২ হাজার টাকা দাবি করছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে এত বড় ফান্ডের জোগান দেওয়া অসম্ভব।”
অভিভাবক সেন্টু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা এভাবে বাচ্চাদের মৃত্যুঝুঁকিতে ঠেলে দিতে পারি না। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ও ফ্যানের ব্যবস্থা না করলে আমরা শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেব।”
জাজিরা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র দাস এ বিষয়ে তার অনবগতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি এক বছর ধরে এখানে কর্মরত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কেউ আমার কাছে আসেনি। নিয়মের বাইরে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীন জীর্ণ ভবনে শিশুদের পাঠদান এক অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।

