মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার। ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা অপরাধী এই ধরনের হীন ও অমানবিক অপরাধ করার সাহস না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকার মিরপুরে সংঘটিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই নৃশংস ঘটনা আমাদের সমাজের চূড়ান্ত নৈতিক অবক্ষয়ের একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। বর্তমান সরকার কোনোভাবেই শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ মেনে নেবে না এবং অপরাধীদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ হরণ করেনি, বরং দেশের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। তিনি
দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আমাদের মানবতা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের। এই সুকুমার বৃত্তিগুলোকে সমাজ থেকে একেবারে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যার খেসারত এখন সমাজকে দিতে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর, কবির লাশবাহী খাটিয়া বহনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এছাড়া ১৯৮৯ সালের ২৫ মে কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতেও বেগম খালেদা জিয়া সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন। কবির স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে কবি নজরুলকে বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মূলত একটি অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার এক সার্থক প্রতিনিধি এবং আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার অনন্য প্রতীক। কবির সাম্য ও দ্রোহের চেতনাকে ধারণ করেই সরকার একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে।

