পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পালাবদলের পর এবার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন টালিউড মেগাস্টার ও সাবেক সংসদ সদস্য দীপক অধিকারী দেব। দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক যাত্রা শেষে তিনি ফের পুরোদস্তুর অভিনয়ে মনোনিবেশ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি নিজের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ে ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত হলেও জনমতকে সম্মান জানিয়ে দেব জানিয়েছেন, তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে নিজেকে জড়াতে আগ্রহী নন। আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি আসলে কোনোদিনই রাজনীতি করতে চাইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধেই রাজনীতিতে আসা। রাজনীতি না করলে আমার দিন চলবে না—এমন পরিস্থিতি আমার নয়।” এখন থেকে সিনেমার রুপালি পর্দায় আগের মতো নিবিড়ভাবে কাজ করতে চান এই তারকা।
তৃণমূলের শাসনামলে টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে পরিলক্ষিত হওয়া ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বা নিষিদ্ধকরণ প্রথা নিয়ে দেব বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে চলচ্চিত্র শিল্পে একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। দেবের ভাষায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে এখন আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের ওপর নিয়মের বোঝা চাপানো হবে না। আমি বিশ্বাস করি, এখন থেকে কাজের পরিমাণ বাড়বে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে।”
রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর দেবের দলবদল নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন শুরু হলেও তিনি তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। বিজেপিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “বাংলায় নতুন সরকার গঠনের জনাদেশ পাওয়ায় বিজেপিকে অভিনন্দন। আমি আশা করি, নতুন সরকার রাজ্যের অগ্রগতি, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।” একইসঙ্গে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে বিভাজনের সংস্কৃতি পরিহার করে ঐক্য ও শৈল্পিক স্বাধীনতা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।
রাজনীতি থেকে দূরে সরার কথা বললেও নিজের নির্বাচনী এলাকা ঘাটালের মানুষের কথা ভুলছেন না দেব। বহু বছরের অমীমাংসিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়নের জন্য তিনি নতুন সরকারের পূর্ণ সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ঘাটালের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে না থাকলেও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নেপথ্য থেকে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছেন এই অভিনেতা। দেবের এই সিদ্ধান্তকে টলিউড এবং বাংলার রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

