প্রধান খবর

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জনসভা আজ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ (১ মে) রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু নয়াপল্টনে এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর ঢাকা মহানগরীতে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম প্রকাশ্য জনসভা। ফলে এই সমাবেশকে ঘিরে কেবল শ্রমিক সমাজ নয়, বরং সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমাবেশ শুরু হবে। সমাবেশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারা জানিয়েছেন, মঞ্চ নির্মাণসহ সকল কারিগরি প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে কয়েক লক্ষ শ্রমিকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান জানান, মহান মে দিবসের এই আয়োজন মূলত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য। তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সমাবেশে যোগ দিয়ে দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বার্তা প্রদান করবেন।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজধানীর এই জনসভাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য একটি বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার মাটিতে তার প্রথম বক্তব্য শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার কী ধরণের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তার প্রতিফলন পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মে দিবসের মূল অঙ্গীকার হবে বৈষম্যমুক্ত কর্মপরিবেশ এবং শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় ভলান্টিয়াররাও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন।

বিপুল জনসমাগমের কারণে দুপুরের পর থেকে রাজধানীর নয়াপল্টন ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল কিছুটা সীমিত থাকতে পারে বলে ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *